প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 6, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 24, 2026 ইং
ঈদের ছুটিতে পর্যটকে মুখর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, উৎসবের আমেজ উপকূলজুড়ে।

ঈদের দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। প্রকৃতির তাজা গন্ধ আর সমুদ্রের গর্জন উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন এই পর্যটনকেন্দ্রে।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৈকতে বাড়তে থাকে পর্যটকের ভিড়। আগত দর্শনার্থীরা সমুদ্রের নীল জলে সাঁতার কাটা, প্রিয়জনের সঙ্গে ছবি তোলা, কিংবা বেঞ্চে বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করে সময় কাটাচ্ছেন।
সৈকতজুড়ে হই-হুল্লোড়, ছুটাছুটি জমে উঠেছে আনন্দের আয়োজন। উত্তাল ঢেউয়ের তালে তালে গান-নাচে মেতে উঠেছেন পর্যটকরা।
এদিকে মিনি সুইজারল্যান্ড, লেম্বুর বন, শুঁটকি পল্লি, ঝাউবাগান, গঙ্গামতি ও বৌদ্ধ বিহারসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানেও দেখা গেছে পর্যটকদের ভিড়।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি মিলিয়ে টানা ৯ দিনের বিরল অবকাশে পুরো কুয়াকাটা যেন রঙিন উৎসবে রূপ নিয়েছে।
তবে ঈদের দিন বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটক উপস্থিতি কম থাকলেও, ঈদের তৃতীয় দিন সকাল থেকেই সাগরপাড়ে নামে মানুষের ঢল। পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে ছুটে আসছেন সবাই।
পটুয়াখালীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পর্যটকদের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে সৈকতের প্রতিটি প্রান্ত। ঢাকা থেকে আসা জহিরুল ইসলাম জানান, সমুদ্রের ধারে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা আমাদের কাছে সবসময়ই নতুন লাগে, যা মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।
সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। আগামী দিনে আরও বাড়বে বলে আশা করছি। রমজানে দোকান বন্ধ ছিল, এখন ভালো ব্যবসার আশা করছি।
অন্যদিকে কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এমএ মোতালেব শরীফ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ৭০-৮০ শতাংশ হোটেল ইতোমধ্যে বুকিং হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাদের টহল টিম মাঠে কাজ করছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ এর সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি থানা, নৌ ও ডিবি পুলিশও দায়িত্ব পালন করছে, ফলে পর্যটকরা নিরাপদে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কুয়াকাটা আপডেট