প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 6, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 4, 2026 ইং
মহিপুর-আলিপুরে জেলেদের মাঝে ন্যায্য মূল্যে ডিজেল বিতরণ, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমের অভিযোগ

সাইফুল ইসলাম সাগর, কলাপাড়া (পটুয়াখালী):
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্যবন্দর মহিপুর ও আলিপুরে জেলেদের মাঝে ন্যায্য মূল্যে ডিজেল বিতরণ করা হয়েছে। এতে জেলেদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন তারা।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মহিপুর বিএফডিসি মার্কেটে এ জ্বালানি তেল বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক। এ সময় মহিপুরে ২০ জন জেলের মাঝে ১৫ হাজার লিটার এবং আলিপুরে ১২ হাজার লিটারসহ মোট ২৭ হাজার লিটার ডিজেল বিতরণ করা হয়। প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১০১ টাকা ৭৪ পয়সা।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক জানান, ট্রলাররের ভিন্নতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বড় ও ছোট ইঞ্জিনভিত্তিক হিসাব করে জেলেদের মধ্যে ডিজেল বিতরণ করা হয়েছে। একজন জেলে সর্বোচ্চ ১০০০ লিটার এবং সর্বনিম্ন ৪০০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহিপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মোহাম্মদ ফজলু গাজী, মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রাজু আহমেদ রাজা, সাধারণ সম্পাদক সুমন দাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
তবে জেলেরা জানান, একটি বড় ট্রলার সমুদ্রে একটি পূর্ণ ট্রিপ সম্পন্ন করতে প্রায় আড়াই হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। সেখানে তারা সর্বোচ্চ ১০০০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল পেয়েছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ফলে ভবিষ্যতে পূর্ণ ট্রিপের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ ডিজেল ন্যায্য মূল্যে সরবরাহের দাবি জানান তারা।
অন্যদিকে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ঘাটে শত শত ট্রলার থাকলেও সীমিত সংখ্যক ট্রলার মালিক এই সুবিধা পেয়েছেন। সরবরাহকৃত ডিজেলের পরিমাণও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
এছাড়া অনেক ট্রলার মালিক জানান, পর্যাপ্ত ডিজেলের অভাবে তাদের ট্রলার ৪ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত ঘাটে নোঙর করে রাখতে হচ্ছে। এতে জেলেদের আয়-রোজগার ব্যাহত হচ্ছে এবং তাদের পরিবারগুলো পড়ছে আর্থিক সংকট ও খাদ্যাভাবের মুখে।
জেলেরা দ্রুত ডিজেল সরবরাহ বৃদ্ধি করে এই সংকট নিরসনে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কুয়াকাটা আপডেট