প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এখন পর্যটকদের জন্য এক আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। সমুদ্রভাঙনে বিলীন হওয়া স্থাপনার ভাঙা কংক্রিট, তীক্ষ্ণ লোহার রড এবং অবকাঠামোর ধ্বংসাবশেষ সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
জোয়ারের সময় এসব ধ্বংসাবশেষ পানির নিচে তলিয়ে যায়, যা পর্যটক বা জেলেদের পক্ষে বোঝা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অবৈধ স্থাপনার অবশিষ্টাংশ: ২০২২ সালে উচ্ছেদ হওয়া সিকদার রিসোর্টের 'বিচ ক্লাব'-এর ভাঙা অংশগুলো আজও অপসারণ করা হয়নি।
কুয়াকাটা ইকোপার্ক ও জাতীয় উদ্যানের বিলীন হওয়া টয়লেট, গোলঘর, টিউবওয়েল এবং বৈদ্যুতিক খুঁটির কংক্রিট এখন বালুর নিচে চাপা পড়ে আছে।
"গত দুই বছর আগে এক মোটরসাইকেল চালক ভোরে পর্যটক আনতে গিয়ে পানির নিচে থাকা কংক্রিটে ধাক্কা খেয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।"
মো. মনির হোসেন, স্থানীয় বাসিন্দা
গোসলে নেমে পানির নিচের কংক্রিটে মাথায় বা পায়ে আঘাত পেয়ে অনেকের ভ্রমণের আনন্দ বিষাদে পরিণত হচ্ছে। জাল টানতে গিয়ে জেলেরা প্রায়ই জখম হচ্ছেন এবং তাদের জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটছে।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের মতে, এই কংক্রিটগুলো কেবল জননিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং সমুদ্রের পরিবেশের জন্যও দীর্ঘমেয়াদী হুমকি। এগুলো বালুর নিচে চাপা পড়ে বিপজ্জনক 'ট্র্যাপ' বা ফাঁদে পরিণত হচ্ছে।
পর্যটকদের সচেতন করতে কাজ করছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানিয়েছেন, বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে এসব ধ্বংসাবশেষ দ্রুত অপসারণের জন্য ইতিমধ্যে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
দ্রুত এসব ঝুঁকিপূর্ণ ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করা না হলে কুয়াকাটার পর্যটন শিল্প দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। জনস্বার্থে সৈকতকে নিরাপদ ও আবর্জনামুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।