রিপন সাব্বির,কলাপাড়া পটুয়াখালী।
পটুয়াখালীর ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় মহিপুরকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় রূপান্তরের দীর্ঘদিনের দাবিকে আরও বেগবান করতে এক নাগরিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) আসরের নামাজের পর মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এই জনগুরুত্বপূর্ণ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মহিপুর অঞ্চলের চারটি ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে মহিপুরকে উপজেলায় উন্নীত করার যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়।
এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় চারটি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, সাংবাদিকবৃন্দ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, মহিপুর অত্র অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, মৎস্য আহরণ ও পর্যটন শিল্পের এক বিশাল কেন্দ্রবিন্দু। ভৌগোলিক দূরত্ব এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা থেকে অনেকাংশে বঞ্চিত হচ্ছে। মহিপুরকে উপজেলায় রূপান্তর করা হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি প্রশাসনিক সেবার গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।
সভায় বক্তারা একযোগে দাবি জানান যে, বর্তমান সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন পূরণে মহিপুরকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি। তারা এই দাবি বাস্তবায়নে সরকারের উচ্চপর্যায়ে জোরালো আবেদন জানানোর ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেন।
অনুষ্ঠানে সর্বসম্মতিক্রমে মহিপুরের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে এবং প্রশাসনিক সেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে মহিপুর উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়। নাগরিকবৃন্দের সরব অংশগ্রহণে সভাটি একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।
উল্লেখ যে, গত ২২ জানুয়ারি মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য জনাব এবিএম মোশাররফ হোসেন মহিপুর থানাকে উপজেলায় রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির প্রতি অটল থেকে, জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর গত ১৫ মার্চ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি মাননীয় স্পিকারের নিকট মহিপুরকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণার দাবিটি অত্যন্ত জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন।