কুয়াকাটা আপডেট
প্রকাশ : Jun 4, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

উপকূলীয় নদ-নদীতে চিংড়ির রেনু নিধন অব্যাহত, হুমকিতে মৎস্যসম্পদ ও হ্যাচারী



স্টাফ রিপোটার্স :

পটুয়াখালীর উপকূলীয় নদ-নদী ও অভয়াশ্রম এলাকায় অবৈধভাবে চিংড়ির রেনু আহরণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ চিংড়ির রেনু পাচারের পাশাপাশি ধ্বংস হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা। এতে একদিকে হুমকির মুখে পড়ছে দেশের মৎস্যসম্পদ, অন্যদিকে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে উপকূলীয় হ্যাচারী শিল্পে।

কুয়াকাটার জননী গলদা চিংড়ি হ্যাচারির স্বত্বাধিকারী  জাহাঙ্গীর শেখ জানান, সরকারিভাবে চিংড়ির রেনু আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও কলাপাড়ার সোনাতলা নদী, শিববাড়িয়া নদীর মোহনা ও আশপাশের এলাকায় অবাধে অবৈধ মশারী জাল ব্যবহার করে রেনু সংগ্রহ করা হচ্ছে।


তিনি অভিযোগ করে বলেন, হাজীপুরে কোস্টগার্ড স্টেশন থাকার পরও তাদের সামনেই প্রতিনিয়ত রেনু ধরা হচ্ছে। চিংড়ির রেনুর পাশাপাশি ধ্বংস হচ্ছে বিভিন্ন মাছের পোনাও। ফলে ঘের মালিকরা মানহীন রেনু ব্যবহার করে লোকসানের মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে রপ্তানি আয় এবং কমে যাচ্ছে দেশের মৎস্যসম্পদ।

আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার মনে হয় বাংলাদেশে কোনো প্রশাসনই নেই।

তিনি আরও দাবি করেন, অবৈধ ও মানহীন রেনু ধরা এবং বিক্রি বন্ধ করা না গেলে হ্যাচারী ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। একই সঙ্গে সরকারও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ক্ষতির মুখে পড়বে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আন্ধারমানিক নদী, নিশানবাড়িয়া নদীর মোহনা ও সোনাতলা নদীতে কিছু জেলে অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রলোভনে প্রতিদিন অবৈধ নেট জাল দিয়ে রেনু আহরণ করছেন। অথচ পাশেই অবস্থান করা কোস্টগার্ডের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলেদের কাছ থেকে প্রতি চিংড়ির রেনু ১ থেকে ৩ টাকা দরে কিনে একটি সিন্ডিকেট দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করছে। এতে প্রতিদিন ধ্বংস হচ্ছে বিপুল পরিমাণ দেশীয় মাছের পোনা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রেণু শিকারের ফলে শুধু চিংড়িই নয়, পুরো সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন ফিশারিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, রেণু শিকারের সময় অসংখ্য প্রজাতির মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণীর বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশের মৎস্যসম্পদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

এদিকে, কলাপাড়া উপকূলে রেনু পাচার সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী দিদার উদ্দিন আহম্মেদ মাসুম ব্যাপারীর বিরুদ্ধে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দিদার উদ্দিন আহম্মেদ মাসুম ব্যাপারী বলেন, আমি আগে রেনু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও গত ৫ আগস্টের পর থেকে এ ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের রপ্তানি আয়, হ্যাচারী শিল্প ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অবৈধ মশারী জাল দিয়ে মানহীন রেনু ধরা ও বিক্রি বন্ধের পাশাপাশি ভারত থেকে অবৈধ পথে রেনু প্রবেশও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে দেশের উপকূলীয় মৎস্য খাত বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মহিপুরে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ বনবিভাগ কর

1

ঋতুচক্রের ওলটপালট, চৈত্রের দাবদাহ উধাও, জেঁকে বসেছে পৌষের শ

2

কলাপাড়ায় ৬ হাজার ২০০ লিটার ডিজেল ও পেট্রোল জব্দ

3

মহিপুরে নদীর পাড়ের সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগ, প্রশাসনের হস

4

মহিপুরে ভুয়া ডাক্তারের অশ্লীল ছবি ভাইরাল,স্থানীয়দের মাঝে তীব

5

কুয়াকাটা রিপোর্টার্স ইউনিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা

6

পটুয়াখালী-৪ আসনের জনগণের প্রত্যাশা মন্ত্রীসভায় পূর্ণ মন্ত্র

7

শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে কি বললেন তিনি?

8

কুয়াকাটায় অভিভাবকহীন রাখাইন কালচারাল একাডেমি

9

মহিপুরে গুডনেইবার্স বাংলাদেশ এর বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প

10

কুয়াকাটায় ফিসনেট প্রকল্পের উদ্যোগে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিট

11

ঈদগাঁওয়ে পুলিশের পৃথক অভিযান: গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি ও সা

12

ঈদের ছুটিতে পর্যটকে মুখর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, উৎসবের আমেজ উ

13

কুয়াকাটা উন্নয়ন ফোরাম এর আত্মপ্রকাশ

14

রাতের আঁধারে কিশোর-কিশোরীর বাল্যবিয়ে, সাংবাদিকদের সাথে তথ্য

15

মহিপুরে খাল বন্দোবস্ত ও বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে কৃষকদের মান

16

মহিপুরে ডিজেল-মোবিল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির আনুষ্ঠানিক যাত্র

17

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তে আবার উত্তেজনা, হামলায় ৩ বাংলাদেশি

18

মেহেরবানি করে চাঁদাবাজি করবেন না, রাজশাহীতে কর্মী সম্মেলনে জ

19

মহিপুরে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করলেন বৃদ্ধ

20